Sunday, November 20, 2016

২২. নৌকাডুবী

যদি বাড়ীতে রাজাকার পড়ার আগের দিনগুলো ছিল প্রাণবন্ত, কর্মময়, পরের দিনগুলো হলো আবার অনিশ্চয়তায় ভরা। এখন আর আগের মতো হুটহাট কেরানীনগর বাজারে যাওয়া হতো না।  এক ধরণের ভীতি, যেতা ছিল যুদ্ধের প্রথম দিকে, আবার ফিরে এলো।  আর এসব কারণেই অনেক সময় বাজার-ঘাট ঠিক মতো করা হয়ে উঠতো না।  এর মধ্যেই চক থেকে জল নামতে শুরু করে, বাড়ীর  সাথে লাগানো পালানগুলো শুকিয়ে ওঠে।  ওখানে বিভিন্ন কচু গাছ জন্মাতো।  একদিন ওখান থেকেই কচুর ডগা আর কচুর লতি তুলে রান্না হলো। আমরা আরো একধাপ এগিয়ে গেলাম অনিশ্চয়তার পথে। এর মধ্যে একটু একটু করে বইরাগীর  চোকেও  যেতে লাগলাম। ওখানে এখন কলমী শাকের ছড়াছড়ি - সেটাও তুলে নিয়ে আসতাম কখনো সখনো। যুদ্ধের অর্থাভাব শেষ পর্যন্ত আমাদেরও স্পর্শ করলো। কলমী শাক, নতুন ঘাস আর কচুরি পানা  সব আবার মনে করিয়ে দিলো গরু আনার কথা।  হারু-ছানাদের সাথে যখন ঘুরতাম মাঠে আর পানা  দিয়ে মাছ বানিয়ে খেলতাম, তখন ভাবতাম, এখন একটা গরু থাকলে মন্দ হতো না।  গরু পানা  খাবে আর আমরা খাবো  গরুর দুধ। প্র্যাগমাটিক চিন্তা-ভাবনা আর কি? তবে আমাদের এসব গল্প অনেকটা সিনেমার মতো মনে হতো, মানে পাঁচ-সাত-দশ মিনিটের গল্পেই গরুকে আমরা শুধু চড়াতামই না বইরাগীর চোকে, এরই মধ্যে গরুর বাচ্চা হতো, আর সেই বাছুরটা আমাদের পেছন পেছন ঘুরতো।  আমি তখন ওদের বলতাম কিভাবে আমরা গোরখের নাড়ুর অনুষ্ঠান করবো। 

বাড়ীতে  গরু বাচ্চা হবার পরে প্রথম তিন সপ্তাহ আমরা ওই গরুর দুধ খেতাম না।  এটাকে বলা হতো গ্যারা দুধ।  খুব ঘন নাকি হতো।  তখন ওই দুধের একমাত্র মালিক ছিল বাছুর।  অনেক সময় বাছুর না খেতে চাইলেও ওকে জোর করে খাওয়ানো হতো।  একুশ দিনের দিন গরুর দুধ দিয়ে ক্ষীর করা হতো আর তা দিয়ে মোটর দানার থেকে একটু বড় ছোট ছোট নাড়ু।  পাশের বাড়ির নিতাই মাঝি আসতো  সন্ধ্যার পর গোরখের নাড়ু দিতে।  হয়তো যে কেউই এটা করতে পারতো, তবে আমাদের বাড়ীতে  সব সময়ই নিতাই মাঝিই এই পূজার পুরুত হতো।  কোনো মন্ত্র ছিল না, শুধুই পাঁচালি পড়া।  রাশিয়ানরা যেমন চেসতুস্কা গায়, অনেকটা সে রকমই - কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই - নিতাই মাঝি একটা লাইন বলতো সুর করে আর আমরা তার পরে গলা ছড়িয়ে বলতাম হেইও বা হেচ্ছ - অনেকটা এই রকম 

- বলরে বলো 
- হেচ্ছ
- বাইচের নৌকা
- হেচ্ছ
- আগে বারো
- হেচ্ছ
- গাই বিয়ায়িল
- হেচ্ছ
- জোরছে বলো
- হেচ্ছ
- সাহা বাড়ী
- হেচ্ছ
- কালো গাই
- হেচ্ছ
- লাল বাছুর
- হেচ্ছ
...............

এভাবেই চলতো যতক্ষণ না নিতাই মাঝির গলা বসে যেত।  তারপর ছিল আসল কাজ।  বাগনাড়ু  খাওয়া।  আমাদের পাড়ায়  ওটা পারতো রত্না (রতন) আর  সুইস্যা (সুশীল) দুই ভাই। একটা কলাপাতায় সাতটা  নাড়ু রাখা হতো, আর জিমনাস্টদের মতো দুই  পায়ে দাঁড়িয়ে হাতদুটো মাথার উপর নিয়ে শরীরটাকে ধীরে ধীরে পেছন দিকে নামিয়ে আনতে হতো, এভাবে রত্না বা সুইস্যা চার পায়ে দাঁড়াতো, বুক থাকতো  আকাশের দিকে।  এরপর ধীরে ধীরে দুই হাত আর দুই পায়ে ভোর দিয়ে এগুতে হতো কলাপাতায় রাখা নাড়ুর ওখানে, আর ঘাড়  বাকিয়ে মুখ মাটিতে ঠেকিয়ে নাড়ু খেতে হতো।  এ সময় আমরা চাইলেই ওদের হাসাতে পারতাম, এটা ওটা বলতে পারতাম, যাতে ওরা নাড়ু খেতে না পারে। আর যতক্ষণ না ওই নাড়ু খাওয়া হচ্ছে, কেউই প্রসাদ পেত না। আর ওরা নাড়ু খাবার পরেই কেউ ঘটিতে করে ঠান্ডা জল ঢেলে দিতো ওদের গায়ে।  তাই গোরখের নাড়ু শীতকালে হলে  কাউকে সহজে রাজী করা যেত না গোরখের নাড়ু খেতে। আমাদের বাচ্চাদের জন্য অনুষ্ঠানটা ছিল খুবই মজার, আর আমরাই ছিলাম এই অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক। এর পর থেকেই গরুর দুধ সার্টিফিকেট পেত রান্না ঘরে ঢোকার।

গরুর সাথে যুক্ত আরেকটা অনুষ্ঠান ছিল পশুরা বা পুষুরা। এটা হতো শীতের শুরুতে, নবান্নের পর পর। নতুন ধানের চালের গুঁড়া করে তার সাথে জল মিশিয়ে এক দ্রবণ তৈরী করা হতো।  কখনও  রং ছাড়া, কখনো আবির মিশিয়ে রঙিন।  একটা গ্লাস ওই রঙে চুবিয়ে তা দিয়ে ছাপ  মেরে দিতাম গরুর গায়ে।  বাড়ির গরুগুলো ওই দিন নানা রঙে সেজে উঠতো। 
এভাবেই আমরা, হারু-ছানা  আর আমি গরু নিয়ে স্বপ্নে বিভোর হতাম বর্ষা শেষ বইরাগীর  চকে ঘুরে ঘুরে।

হতে পারে আমরাই যুদ্ধের কোনো কুলকিনারা দেখতে পাচ্ছিলাম না, অথবা বড়দের কথায় এমন আভাষ  পেতাম।  এ ভাবেই আরো দীর্ঘ দিন বৈলতলায় কাটানোর এক সম্ভাবনা গড়ে উঠছিলো মনে মনে।  এলাকায় তেমন কিছু ঘটেছিলো না. মাঝে মঝ্যে এ গ্রাম পুড়ানো, ওখানে হামলার খবর আসছিলো, তবে সবই খুব ঢিলেঢালা।  এমনই  এক সকালে খবর এলো ধলেশ্বরীতে জেলেরা বেশ কিছু পাক সেনাকে ডুবিয়ে দিয়েছে।  ওই দিনই বেশ উত্তেজনা নিয়ে আমরা যাই কেরানীনগর বাজারে খবর শুনতে।  ওখানে গিয়ে জানলাম পুরা ঘটনা।

কেন যেন আমাদের বিশ্বাস ছিল পাঞ্জাবীরা  সাঁতার কাটতে জানে না। ওরা এমন কি নদীতে নাইতে ভয় পায়।  যাই হোক, আগের দিন সন্ধ্যায় এক দল পাঞ্জাবী সৈন্য ধলেশ্বরী পার হয়ে আমাদের দিকে আসতে চায়। ওই সময় তো আর রাস্তা ঘাট ছিল না, তাই কিছু কিছু বড় সড়ক থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে গেলেই নিজেদের অনেক নিরাপদ ভাবা যেত।  কেননা ওসব জায়গায় আসার একমাত্র উপায় পায়ে হেটে বা নৌকায়।  যেহেতু আমাদের এদিকে, মানে বৈলতলায় আসার কোনো পথ ছিল না, এ দিকে পাক সেনা ঢুকতে পারে নি।  এবার তাদের নজর পড়লো এদিকে, তাছাড়া এলাকায় মুক্তিসেনা আছে বলেও শোনা যাচ্ছিলো।  তাই তারা এক মাঝির নৌকা ধরে ওকে বাধ্য করে  নদী  পার করে আনতে। মাঝিরা ছিল খুবই করিৎকর্মা।  বললো, ভালো হয় অন্ধকারে নদী  পার হলে, যাতে মুক্তিরা টের না পায়। আর নদীর মাঝামাঝি এসে সৈনিকদের  বলে ছৈয়ের নীচে  বসতে আর ছৈয়ের  মুখগুলো ভালো করে ঢেকে দেয় কাপড় দিয়ে যাতে মুক্তিরা  দেখতে না পায়, এমনকি হ্যারিকেনটাও নিভিয়ে দেয়।  তারপব সুযোগ বুঝে নৌকার তলা ফুটো করে নিজেরা সাঁতরে তীরে চলে আসে, আর পাক সৈন্যরা নৌকাডুবিতে বেঘোরে প্রাণ হারায়।  সাধারণ জেলেদের এই কাজ এলাকার মাসুষের বিশ্বাসকে চাঙ্গা করে তুলে, সবাই যেন দেখতে পায়, বিজয়টা আর তত দূরে নয়।

এই যে মাঝি - ওরা  ছিল একেবারে সাধারণ মানুষ, রাজনীতি থেকে অনেক দূরে। নদীতে মাছ ধরে আর তা বিক্রি করে দিন আনে  দিন খায়। একাত্তরে এরকম লোকের সংখ্যা, যারা কোনো রাজনীতি করতো না, রাজনীতি বুঝতো না, অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হানাদারদের মোকাবিলা করেছে, তাদের সংখ্যা একেবারে কম ছিল না।  তাই আজ যখন সেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়, অবাক হই। বাংলাদেশের যারা স্থপতি এক সময় তারাই এই দেশে দ্বিজাতিতত্ত্বকে, অবিভক্ত ভারত ভেঙে মুসলিম পাকিস্তান গড়ার ভাবনাটাকে জনপ্রিয় করে তুলেন।  কিন্তু দেশ বিভাগের পরপরই দেখা যায়, শুধু ধর্মটাই আমাদের এক। ভাষা, আচার, বিচার, চলন, বলেন সবই ভিন্ন।  গতকালের ভাইয়েরা যখন আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চায়, শোনা যায় প্রথম প্রতিবাদ।  এরপর বাহান্ন, চুয়ান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি, ঊনসত্তর আর সব শেষ এই একাত্তর। একাত্তরে আগে কিন্তু কখনোই স্বাধীনতার প্রশ্ন ওঠেনি। এমন কি ৭ ই মার্চের আগেও না, মানে এর আগে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নি। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন ৭ ই মার্চ "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুৰ মোকাবিলা করবা।" একেই হয়তো বলে লেনিনের সেই বিখ্যাত বাণী - "গতকাল ছিল  খুব তাড়াতাড়ি, কিন্তু  আগামী কাল খুব দেরি হয়ে যাবে  (Yesterday was too early, but tomorrow will be too late)।" জানি না, যদি  ইয়াহিয়া খান দু মাসের জন্য হলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করতো, তাহলে মানুষ এই মুক্তির ডাকে কিভাবে সাড়া দিতো। শেষ মুজিব শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতার হস্তান্তর যাতে হয় তার, আর যখন সেটা হয় নি তখন তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন, ফলে মানুষের চোখে এই যুদ্ধটা ন্যায় যুদ্ধ বলে পরিগণিত হয়।  এর মনস্তাত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো মামলায় ভালো উকিল নিয়োগ করতে হয় বা অসুখ হলে ডাক্তার ডাকতে হয়, যুদ্ধ লাগলেও তেমনি সেনাবাহিনী ডাকতে হয়। এতে করে  মনোবল বাড়ে।  তাই শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার পরও  সেনাবাহিনীর কোন উচ্চপদস্থ অফিসারের মুক্তিযুদ্ধের  সপক্ষে ঘোষণাটা ছিল মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  আর সে জন্যেই আওয়ামীলীগের চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতা মেজর জিয়াকে দিয়ে আবারো স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ান শেখ মুজিবের পক্ষ হয়ে। সঠিক ভাবে বলতে গেলে চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা হান্নান প্রথমে শেখ মুজিবের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বেতারে পাঠ করেন আর এর পরে  হান্নান সাহেব, অন্যান্য আওয়ামীলীগ কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের  অনুরোধে মেজর জিয়াও শেখ মুজিবের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাটি আবারো পড়েন। এভাবেই দেশের মানুষ জানতে পারে সেনাবাহিনী বা সেনাবাহিনীর একটি অংশ এই স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদেরই সাথে। এটা নিঃসন্দেহে দেশের সাধারণ মানুষের মনোবল কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মেজর জিয়া সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল, এটা মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভুমিকারী স্বীকৃতি। পঁচাত্তর ও পঁচাত্তর পরবর্তী তার ভূমিকা নিয়ে কথা উঠতেই পারে, সেটার সমালোচনা হতেই পারে, কিন্তু এই যে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক, স্বাধীনতার উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক - এটা  আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকেই খর্ব করে, স্বাধীনতার সর্বজনীন চেতনাকে দলীয় রাজনীতির খাঁচায় বন্দী  করে ফেলে।  এতে করে আর যেই হোক, দেশ, দেশের মানুষ লাভবান হয় না।

মস্কো, ২০ নভেম্বর ২০১৬                                     

5 comments:

  1. পড়লাম। জেলেদের পাক সৈনিকদের ডুবিয়ে মারা ও গোরখের নাড়ুর গল্প বেশ ভালো লাগলো। ভারত ভাগ হয়েছে religious identity তে। তার পিছনে অনেক বাস্তব কারণ ছিল। তার সরলীকরণ করা ঠিক না।

    ReplyDelete
    Replies
    1. নারে, আমি সরলীকরণ করছি না। যে কারণেই হোক, একসময় উপমহাদেশ অনেকটা একটা দেশের মতোই ছিল, আর তাই-তো ব্রিটিশের পরে অবিভক্ত ভারতের কথা আসে, এক সময় জিন্নাহ নিজের সেটা বলতেন। এখানে শুধু একটা কথাই উল্লেখ করেছি, তা হলো আমাদের অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণাটা জনপ্রিয় করে তুলে সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিব। তাদের প্রচেষ্টার আগে মসলিন লীগ ছিল নবাব আর এলিটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, ফজলুল হকের কৃষক-প্রজা পার্টি ছিল অনেক জনপ্রিয়। তবে এখানে কথাটা হাজার কারণের একটা, কিন্তু বলেছি শুধুই ভূমিকা হিসেবে।

      Delete
    2. আর শেখ মুজিব ও সোহরাওয়ার্দী যে এ অঞ্চলে মুসলিম লীগকে জনপ্রিয় করে তোলেন, সেটা শেখ মুজাব তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে নিজেই লিখেছেন।

      Delete
  2. ব্রিটিশদের বিপক্ষে না হলে জাতিগত ভাবে একক ভারতের সংজ্ঞা যুক্তিতে আসে না

    ReplyDelete
    Replies
    1. মাসুদ, যেকোনো জাতীয় এক হয় কমন শত্রুর বিরুদ্ধে, আর সেটা না থাহলে হাজার ভাবে বিভক্ত হয়ে যায়। এটাই নিয়ম, আর তাই অজনপ্রিয় নেতারা যুদ্ধ করে, শত্রু খোঁজে। আমার কেন যেন মনে হয় প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ সামনে, বিশেষ করে রেলপথ সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরস্পর নির্ভর অর্থনীতি ও বাণিজ্যের কারণে দেশটা অনেকটা একটা আইডেন্টিটি পেয়েছিলো, আর তাইতো অবিভক্ত ভারতের প্রশ্ন এসেছিলো। যদি এথনিক্যাল জাতিভিত্তিক ভাগ হতো, তাহলে তো এখানে হাজারটা দেশ হতো, দুটো না। ধর্মীয় বন্ধন আছে, তবে সেটা বলতে প্যারিস আধ্যাতিক। দেশটা ধর্মীয় না, রাজনৈতিক ধারণা। আর তাইতো ১৯৪৮ থেকেই শুরু হলো হাজারো ঝামেলা। এটা ছিল অবধারিত। মাথার সাথে পায়ের কোষগুলো যুক্ত, তবে তা দেশের মাধ্যমে - এই সব কোষগুলো এক অবিভক্ত স্বত্তা তৈরি করি, দেহ ছাড়া শুধু পা আর মাথার কোষ সেটা পারে না। তবে মোদ্দা কথা হলো, যে সব সমস্যাকে সামনে এনে এই দেশ ভাগ হলো, তার একটাও সমাধান করা যায়নি, সাম্প্ৰদায়িকতা ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে, তাই ওই প্রজেক্টটা ছিল যতটা না সমস্যা সমাধানের, তার চেয়ে বেশি কিছু নেতার নিজস্ব খামখেয়ালি মেটানোর। মানুষ যেমন ছিল তেমনি আছে।

      Delete